ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা ‘হ্যাঁ’ সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে-আলী রীয়াজ আজকের লড়াই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে-মির্জা ফখরুল ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা বড় আকারে বেড়েছে -টিআইবি নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়ী হবে-নাহিদ ইসলাম জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩ ফেসবুকে বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা, প্রতারকের ৭৬ লাখ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত অন্যের এনআইডি বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না-ইসি ৮ লাখ ভোট কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শুরু, চলবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সেনাপ্রধানের ত্রয়োদশ নির্বাচনে পোস্টার নেই নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের করণীয় ও নিষেধাজ্ঞা ৪৮তম বিশেষ বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগ ত্রয়োদশ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী তালিকায় তারুণ্য মেলবন্ধনে চমক ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন উল্লাসে মুখর শিক্ষার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় চাঙা নির্বাচনী মাঠ মানুষই হচ্ছে রাজনৈতিক সকল ক্ষমতার উৎস প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন নির্ধারণ করেছে সরকার ঢাকায় গত এক বছরে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১৯

প্রচার-প্রচারণায় চাঙা নির্বাচনী মাঠ

  • আপলোড সময় : ২৩-০১-২০২৬ ১২:১৬:১১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০১-২০২৬ ১২:১৬:১১ পূর্বাহ্ন
প্রচার-প্রচারণায় চাঙা নির্বাচনী মাঠ

* উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের
* আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু জামায়াতের
* নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা
* নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াতের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী এলাকায় ছুটে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন তারা। পাশাপাশি দিচ্ছেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি। তবে ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জেলায় নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনেই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ দেশের সম্পদ লুট করেছিল। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। বক্তব্য দেওয়ার সময় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপের প্রসঙ্গ টেনে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দোজখ-বেহেশতের মালিক আল্লাহ। যারা বিভিন্ন টিকিট দিচ্ছে সেটা শিরক। ওমরাহ পালন করে আসা একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তারেক রহমান জিজ্ঞাসা করেন, আপনি তো কাবা শরিফে গিয়েছেন, কাবার মালিক কে? সমাবেশে উপস্থিত সবাই মুসলমান উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তার কাছে জানতে চান, এই দুনিয়া, জান্নাত-জাহান্নামের মালিক কে? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ। এরপর বিএনপির প্রধান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, সবার মালিক আল্লাহ। জেতার মালিকও আল্লাহ। সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব বলছে। জেতার মালিক মানুষ না, সেইটার কথা যদি যে বলে, শিরক করা হচ্ছে। এরআগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন আম্বরখানা মসজিদের ইমাম মাওলানা ছালিক। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্চে উঠেন তারেক রহমান। এ সময় স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে আলিয়া মাদরাসা মাঠ। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে বিমানবন্দর এলাকার গ্রান্ড সিলেট হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। জনসভায় বিপুল নেতাকর্মী সিলেট ও সুনমাগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অংশ নিয়েছেন। এরআগে সিলেটে শ্বশুরবাড়ি থেকে ধানের শীষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তারেক রহমান বলেন, শাহজালাল এবং শাহপরাণের মাজার জিয়ারত শেষে ১২ ফ্রেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনের কার্যক্রম দলের পক্ষে এখান থেকেই শুরু করলাম। আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমাদের ওপর রহমত কায়েম করেন। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান তারেক রহমান। নারী, কৃষি, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চান তিনি। জনগণের ভোটে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
রাজধানীর শাজাহানপুরে নিজ বাসায় দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন ঢাকা-৮ (মতিঝিল, পল্টন ও শাহবাগ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার দুপরে তিনি ১২ ওয়ার্ডের শান্তিবাগ ও শান্তিনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ করেন। এতে তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় ধানের শীষ স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে পুরো এলাকা। মির্জা আব্বাস প্রচারণার সময় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন বলে জানান। একইদিন আনুষ্ঠানিকভাবে জণসমাবেশ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৩টায় মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ জনসমাবেশ শুরু হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এদিন দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৪ আসনের ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এ সময় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিধস বিজয় হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন কালো টাকা ও পেশিশক্তিমুক্ত একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করবেন। ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন এবং ভোটারদের কাছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।  তিনি আরও বলেন, আমাদের আদর্শ হচ্ছে আমরা আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই আমাদের সব কার্যক্রম। আল্লাহ ছাড়া আমরা কাউকে ভয় করি না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। তিনি আরও বলেন, এই জনপদের সবকিছুর সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাই এখান থেকেই বাংলার পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে এই যাত্রা করছি। এবারের নির্বাচন যাত্রা আধিপত্যবাদ বিরোধী আজাদীর যাত্রা উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই যাত্রার প্রধান অ্যাজেন্ডা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীর মাজার এলাকা থেকে সকাল ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারে নামেন গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সংগঠক ও ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম। এসময় ওই আসনের বিএনপি ছাড়াও চার দলীয় জোটের দলীয় নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিনে দিনভর সানজিদা ইসলাম হেঁটে হেঁটে প্রচারণা শুরু করেন। এসময় তিনি বিভিন্ন এলাকায় যান। রাস্তাঘাট পথচারী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কাছে তিনি ভোট, দোয়া ও সমর্থন চান। নির্বাচনি প্রচারে সানজিদা ইসলাম বলেন, গুম, খুন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনে এই প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। গতকাল বৃহস্পতিবার  রাজধানীর শেখেরটেক ও আদাবর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। ববি হাজ্জাজ বলেন, আমাদের হাতে আর মাত্র ১৮ দিন আছে। এর মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, ১২ তারিখ সারাদিন, ধানের শীষে ভোট দিন। আর কোনো কাজ নেই। খাওয়া নেই, ঘুম নেই, কিচ্ছু নেই। শুধু ঘরে ঘরে যাবেন, সঠিকভাবে ধানের শীষে ভোট চাইবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দিনভর প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় উৎসব বিরাজ করছে ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ি ও ডেমরা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথমদিনেই এলাকা প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম থাকতে দেখা গেছে। ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনটি যাত্রাবাড়ি ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলনের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। এছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, এলডিপির মো. হুমায়ূন কবির। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মো: নবী উল্লাহ নবী ও জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের আত্মীয়-স্বজনপ্রীতি রয়েছে। ফলে প্রার্থী হিসেবে তারা দুইজন বেশি পরিচিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৫ জন। ওয়ার্ড রয়েছে ১২টি। এগুলো হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড। বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লা (নবী) সকালে যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে আলেম-ওলামাদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করেছেন। এরপর তিনি ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে দিনভর জনসংযোগ করেন। একই আসনের ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্যদিয়ে প্রচারণায় নামেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম। পরে তিনি ডেমরার সারুলিয়া, টেংরাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভোট চেয়েছেন, লিফলেট বিতরণ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে ফেস্টুন লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। একই দিনে নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জামায়াতের প্রচারণায় যুবদল নেতার বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার নেওয়াজপুর এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভবানীগঞ্জ এলাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ফেস্টুন লাগাতে যান ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। অপরদিকে নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেওয়াজপুর এলাকায় জামায়াতের মহিলা বিভাগের আয়োজিত উঠান বৈঠকে ছোটন নামে এক যুবদল নেতা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় সবাই নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারবেন। কেউ কারও প্রচারণায় বাধা দিতে পারবেন না। বিষয়টি মাঠপর্যায়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। প্রচারণায় বাধা দেয়ার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। সেই সাথে ভোটে জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ চলছে উত্তরের জেলা পাবনায়। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে অনন্ত দুই থেকে তিনটি আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, কোনো কোনো আসনে দলের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় কিছু বিপাকে আছে বিএনপি। যদিও বিএনপি দাবি করেছে, একটি মাত্র আসন ছাড়া বাকি চারটি আসনে তারা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জয়-পরাজয়ের হিসাব নিকাশের বাইরেও এবারের নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে ভোটের পরিবেশ নিয়ে। কেননা, এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পাবনার ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে দল দুইটির নেতারা বলছেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা আশা করছেন নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। পাবনার অন্তত তিনটি আসনের ভোটাররা বলেছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আওয়ামী লীগের ভোট। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেছেন, আমরা আশা করছি এবারের আওয়ামী লীগের যে সব ভোটার জামায়াতকে পছন্দ করে না তারা মুক্তিযুদ্ধপন্থী দল হিসেবে বিএনপিকেই ভোট দিবে। পাবনার রুপপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম ও একমাত্র এখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। যেটি কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন আসলেও বেড়েছে নানা সংকট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বান্দরবানে শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বান্দরবান ৩০০ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী থানচি উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণার প্রথম দিনেই তিনি পৌঁছে যান পাহাড়ি গ্রামগুলোতে। এসময় তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হলে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ তরান্বিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বান্দরবান ৩০০ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও তা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করবেন বলে ভোটারদের কাছে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ মো.সুজাউদ্দীন ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবু জাফর মো.ওয়ালী উল্লাহ প্রচারণা শুরু করবেন।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যদিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে নয় বাম দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জোটের মনোনীত সাত প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জোটের নেতাকর্মীরা। সাত মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা-৮ আসনে ত্রিদ্বীপ সাহা, ঢাকা-৯ আসনে মনিরুজ্জামান মিলন, ঢাকা-১১ আসনে কল্লোল বণিক, ঢাকা-১৫ আসনে সাজেদুল হক রুবেল, ঢাকা-৫ আসনে তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা দীপু, ঢাকা-১৪ আসনে রিয়াজ হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনে ফিরোজ আল মামুন। এ সময় সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, সরকারি আইন ও ইলেকশন কমিশনের বিধান অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকার শহীদ মিনারে শপথ নিয়ে প্রকাশ্য নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনারকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও সব গণসংগ্রামের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নভেম্বরের শেষে গঠিত হয়েছে এবং এর গঠন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ জাসদসহ আরও কিছু দল এতে সম্পৃক্ত রয়েছে। আমরা শুধু ভোট চাইতে আসিনি বরং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে বামপন্থি, প্রগতিশীল, উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে সরকার প্রতিষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছি। তিনি বলেন, ব্যবস্থা বদল না হলে মানুষের ভাগ্য বদলানো যাবে না। দেড় বছরের শাসনে পুরোনো ব্যবস্থা বহাল থাকার কারণেই ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি এবং নির্বাচন নিয়েও খেলা শেষ হয়নি। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত হ্যাঁ-না গণভোটকে অপ্রয়োজনীয় ও প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে জনগণকে মিথ্যাচারের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংস্কার করতে হলে তা জনগণের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে করতে হবে এবং সেই কাজ নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পার্লামেন্টে গিয়ে করবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

চলতি বোরো মৌসুমে ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা